Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

নিরাপত্তার  পরিবর্ত্তে নির্যাতন ঃ এ কোন আশ্রয়?

জ্যোতিবিকাশ সিন্হা

 সারাদেশের প্রত্যেক রাজ্যেই সরকারী ও বেসরকারী পরিচালনায় মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধীদের জন্যে ‘হোম’ বা আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে, যাদের দায়িত্ব হচ্ছে আবাসিকগণের নিশ্চিন্ত আশ্রয় ও সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা৷ কিন্তু মাঝে মধ্যেই এই সমস্ত হোমগুলির সম্পর্কে জঘন্য ও নিন্দনীয় ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়৷ কয়েকদিন আগে হাওড়া জেলার জয়পুরের পারবাকসিতে অবস্থিত একটি বেসরকারী হোমের চারজন কিশোরীকে যৌননির্যাতনের অভিযোগে সেই হোমেরই তিনজন কর্মী --- কেয়ার টেকার ফণীমোহন বাগ, কর্মী প্রতাপ প্রামাণিক ও ড্রাইভার বাবলু ধাড়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ নির্যাতিতাদের মধ্যে তিনজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধী৷ কয়েকদিন আগে জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক হোম পরিদর্শনের সময় আবাসিকদের কাছ থেকে এই যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পান৷ এরপরে ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয় ও ফলস্বরূপ হোমের উপর্যুক্ত কর্মীগণকে ‘‘পকসো’’ আইনে গ্রেপ্তার করে গত শনিবার, ১লা ডিসেম্বর ২০১৮, উলুবেড়িয়া আদালতে হাজির করানো হয়৷

বছর আটেক আগে ২০১২ সালের জুলাই মাসে হুগলি জেলার গুড়াপের একটি বেসরকারী হোমের ঘটনায় চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছিল৷ সেই সময় মাটি খঁুড়ে ওই হোমের এক আবাসিক মহিলার পচাগলা দেহ পাওয়া যায়৷ তদন্তে জানা যায় যে যৌন নির্যাতনে বাধা দেওয়ার কারণে তাঁকে খুন করে মাটিতে পঁুতে দেওয়া হয়েছিল৷ পরবর্তীকালে ২০১৫ সালে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলির তিওড়ের বেসরকারী হোমে ও নদীয়ার কৃষ্ণনগরের সরকারী হোমে, ২০১৬ সালে কুচবিহারের বাবুর হাটের সরকারী হোমে ও বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সরকারী বেসরকারী হোবামগুলিতে কোথাও যৌননির্যাতন , কোথাও শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার , খুন , আবাসিকদের হোম থেকে পলায়ন ইত্যাদি নানা ধরনের ঘটনার সংবাদ পত্রপত্রিকায় ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে৷ শুধু এই রাজ্যেই নয়, অন্যান্য রাজ্যের হোমগুলিতেও একই অবস্থা পরিদৃশ্যমান৷ বেশ কিছুদিন আগে বিহারের ১৭টি ‘শেলটার হোম’ এর যৌন নির্র্যতনের ঘটনা দেশের সংবাদমাধ্যমগুলির শিরোনামে এসেছিল৷ এই ঘটনাগুলিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে অভিযুক্তরা হলেন সেইসব হোমেরই কর্র্তব্যষ্টিগণ কিংবা বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীবর্গ--- অর্থাৎ রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ ৷

এই সমস্ত হোমগুলির আবাসিকগণ হলেন সমাজের সর্র্বপেক্ষা দুর্বল অংশ যাঁরা অনন্যোপায় হয়েই হোমগুলিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন৷ এমনকি নিজের  পরিবার-পরিজনদের কাছেও যারা নিরাপত্তা পান না তাদেরও এই হোমগুলিতে রাখার ব্যবস্থা হয়--- বিশেষতঃ বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপে৷ এই হোমগুলিতে যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা ও সাময়িক  পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকে বলেই শোণা যায় ও কর্ত্তৃপক্ষও তা-ই বলে থাকেন৷ তথাপি হোমগুলিতে এইধরণের ঘটনা ঘটে কিভাবে? আমরা যে সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে বাস করি তার গভীরে প্রবেশ করলেই এই প্রশ্ণের উত্তর খঁুজে পাওয়া সম্ভব৷ বৈশ্যতান্ত্রিক এই সমাজ ব্যবস্থার মূল প্রতিপাদ্যই হল’ ভোগবাদ আর দুর্বলের ওপর প্রবলের অত্যাচার ও শোষণ৷ মানবিক মূল্যবোধ , ন্যায়-নীতির পরাকাষ্ঠা এই সমাজব্যবস্থায় অচল পয়সার মত মূল্যহীন৷ পৃথিবীর সমস্ত কিছুকেই ভোগ্য হিসেবে করায়ত্ত করার সীমাহীন লোভ মানুষকে সর্ববিধ অন্যায় ও দুর্নীতির পথে পরিচালিত করে চলেছে৷ ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষও তাই আজ ভোগ্যপণ্যে পরিণত৷ বয  উদ্দেশ্যে আইনকানুনও তৈরী হয়৷ কিন্তু এই আইনকানুনগুলির যথাযথ প্রয়োগ ও পালন করার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত থাকে তারা এই সমাজেরই অংশ৷ তাই গাছের গোড়া কেটে উপর থেকে জল ঢাললে কোন লাভ হয় না--- সব পরিশ্রম ও ব্যবস্থাপনা বিফলে যায় ৷ সেই কারণে গোড়াটি মজবুত হওয়া একান্ত প্রয়োজন৷ তাই মানুষের সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়নীতির ভিত দৃঢ় না হলে ভোগবাদ ও জড়বাদের ষ্টীমরোলারে পিষ্ট হওয়া ছাড়া সেই সমাজের মানুষের সামনে অন্যপথ খোলা থাকে না৷

বহু মানুষের সমাহারেই সমাজের সৃষ্টি৷ সমাজের মানুষগুলি যদি সুন্দর হয় তবে সমাজও সুন্দর হতে বাধ্য৷ প্রত্যেক মানুষ তার মন ও বিবেকের দ্বারা পরিচালিত হয়৷ এই মনের আবেগেই একজন অপরজনকে ভালোবাসে , প্রেম-প্রীতি স্নেহমায়া মমতার ডোরে বাঁধে৷ আবার এই মনের কালিমার কারণেই লোভ-লালসা, হিংসা-সন্ত্রাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ৷ একটা চারা গাছ কে যেমন বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত রেখে বড় করা হয়, ঠিক তেমনই মানুষকেও শিশুকাল থেকে সত্য-ন্যায়ের পথে চলার সুশিক্ষা দান অত্যন্ত প্রয়োজন৷ এরজন্যে আধ্যাত্মিকতার পাঠ নিতেই হবে৷ কারণ, আধ্যাত্মিক চেতনা ব্যতীত নৈতিকতার শিক্ষা সম্পন্ন হয় না৷ আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি সুদৃঢ় হলেই নৈতিক চরিত্রের মান উন্নত হয়, সত্য ও ধর্মের পথে চলার অনুপ্রেরণা জাগে৷ এইজন্যেই অতীতের সমাজ ব্যবস্থায় নৈতিকতা, মানুষের প্রতি মানুষের প্রেম-প্রীতি ভালোবাসা ছিল গভীর ও নিবিড়৷ সেই সময়ে গুরুগৃহে ছাত্র-ছাত্রাদের অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আধ্যাত্মিকতারও শিক্ষা দান করা হত৷ কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় আধ্যাত্মিক দিককে অবহেলা করার ফলে ছাত্রছাত্রাদের নৈতিক চরিত্র নির্র্মণ যথাযথ ভাবে হচ্ছে না৷ তারা ভবিষ্যতে এক একজন দক্ষ অর্থউপার্জনকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার প্রতিযোগীরূপে পরিগণিত--- যেন তেন প্রকারে বিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় পাশ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে সামিল হতে গিয়ে প্রকৃত মানুষ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না৷ ফলে সত্যিকারের মানুষের সমাজও গড়ে উঠতে পারছে না৷

মানুষ সামাজিক জীব ও নিজেদের প্রয়োজনে সমাজ রচনা করেছে৷ সমানম্ এজতে ইতি সমাজঃ৷ সমাজের প্রত্যেক সদস্যই সমান সুবিধা ও অধিকার ভোগ করার ভাগীদার৷ প্রত্যেকের সবরকম বিস্তারের সুযোগ থাকতে হবে যাতে তার প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ সম্ভব হয় ও সমগ্র সমাজ তার দ্বারা উপকৃত হয়৷ সমাজের কাউকে বঞ্চিত, প্রতারিত বা শোষিত হতে দেওয়া চলবে না৷ একমাত্র তখনই সমাজ শব্দটির সার্থক রূপায়ণ সম্ভব হবে৷ এই উদ্দেশ্যেই মহান দার্শনিক তথা আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী ওরফে শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার যুগোপযোগী সর্র্বনুসূ্যত পূর্ণাঙ্গ আধ্যাত্মিক দর্শন ‘আনন্দমার্গ’ ও সামাজিক -অর্থনৈতিক দর্শন ‘প্রাউট’ বা PROUT - Progressive Utilisation Theory প্রবর্তন করেছেন৷ আনন্দমার্গের যোগসাধনা, যম-নিয়ম আসন প্রাণায়াম, ধ্যান-ধারণা, সমাধি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করবে ও প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে৷ আর আধ্যাত্মিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত প্রাউট দর্শনের প্রয়োগে একটি শোষণহীন সমাজ তৈরী হবে যেখানে প্রত্যেকটি মানুষের নূ্যনতম প্রয়োজনের (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা) নিশ্চিততা থাকবে৷ সমাজের শোষণের সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট করার ব্যবস্থা রয়েছে প্রাউট দর্শনের মূলনীতিগুলির মধ্যে৷ বিশ্বের সমগ্র সম্পদে সৃষ্টির প্রতিটি সত্তার ভোগ দখলের সমানাধিকার প্রাউটতত্ত্বে স্বীকৃত হয়েছে৷ সমাজের নেতৃত্ত্বে থাকবেন আধ্যাত্মিকতায় প্রতিষ্ঠিত, বলিষ্ঠ চরিত্র বিশিষ্ট আপোষহীন সংগ্রামী, নীতিবাদী ব্যষ্টিগণ---এক কথায় যাঁদের সদবিপ্র বলা হয়৷

আনন্দমার্গ দর্শনের মূলনীতিই হলো ‘‘আত্মমোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ’’৷ প্রতিটি মানুষ সাধনার দ্বারা নিজ মুক্তির জন্যে নিরন্তর সত্য ও ধর্মের পথে এগিয়ে চলবে আর সেবা ও ত্যাগের দ্বারা জগতের হিত বা কল্যাণের চেষ্টা করে যাবে৷ সমাজের নিয়ম শৃঙ্খলা যদি কঠোরভাবে বলবৎ করা হয় ও নীতিবাদের পথে চলায় কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে তবে সেই সমাজের মানুষেরাও সত্য ধর্মের পথে নির্দ্বিধায় এগিয়ে চলবে৷ সৎ নীতিবাদী মানুষের দ্বারা তৈরি সমাজ অবশ্যম্ভাবীরূপে শোষণহীন সমাজে পরিণত হবে৷ এই সমাজের প্রতিটি গৃহকোণই হবে সব মানুষের নিশ্চিন্ত ও নিরাপদ আশ্রয়৷ তখন হয়তো আর কোনো হোমের প্রয়োজন হবে না বা কোনো নারী, শিশু, যুবতীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না৷ তাই আজকের পৃথিবীতে যতদ্রুত সম্ভব আধ্যাত্মিকতা ভিত্তিক শোষণহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে এক সুন্দর নিরাপদ আশ্রয় স্থাপনার শপথ গ্রহণ করতেই হবে৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে
  • ভারতের ভয়ঙ্কর দশা থেকে বাঁচতে  শোষিত নাগরিকদের  ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

পুরানো মাসিক খবর

  • March 2018 (115)
  • February 2018 (120)
  • January 2018 (119)
  • December 2017 (257)
  • November 2017 (51)
Pagination
  • Previous page ‹‹
  • Page 11
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved